আগামী ৪ মাসের সব পণ্য মজুদ আছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী চারমাসের প্রয়োজনীয় সব পণ্য দেশে মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, শনিবার (৯ মে) থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেল ও ডিলারদের মাধ্যমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ টাকা দরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যা ৩৫ টাকা দরে টিসিবি’র ডিলার ও ট্রাকে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী। এসময় বাণিজ্য সচিব, টিসিবির চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের অর্ডারগুলো যাতে বাতিল না হয়, সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দূতাবাসগুলোকে চিঠি দিয়ে কাজ করতে বলা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করার ফলে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি কন্টেইনার জমে গিয়েছিল। কন্টেইনার ডেলিভারি না হওয়ায় আমাদের বাজারে কিছু কিছু পণ্যেও দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে আদার দাম কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ৩২৫/৩৫০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। এরপর পরই বন্দর থেকে কন্টেইনার খালাসের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদাসহ অনেক পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতা সাধারণ যাতে করে সারাবছর সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্য কিনতে পারেন, সেজন্য চাহিদার নিরিখে আগামী এক বছরের অগ্রিম আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আমাদের এ বছর যে পরিমাণ ছোলা মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামী রোজা পর্যন্ত চলে যাবে। 

টিসিবির কার্যক্রম তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, রোজাকে সামনে রেখে প্রতি বছর টিসিবি বিভিন্ন পণ্য আগে থেকে মজুদ রাখে। এ বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় অন্যান্য বারের চেয়ে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর টিসিবি বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশেষ করে টিসিবি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়াও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৬২টি টিম সারা দেশে বাজার মনিটরিং করছে। এর মাধ্যমে ২১ মার্চ থেকে ৫ মে পর্যন্ত মোট ১৭৫৯টি অভিযান পারিচালনা করে মোট ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও কিছু অসৎ ব্যবসায়ী অসাধু কাজ করছেন। এসব কারণে অনেকের ডিলারশিপও বাতিল করা হয়েছে। এখন এটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত ৭ দিনে কোনো অনিয়মের রিপোর্ট পাইনি। জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। সিটি ও মেঘনা গ্রুপকে অনুরোধ করেছিলাম, তারা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে চিনি, তেল ও ডালের দাম কমিয়েছে। আশা করি অন্যরাও এগিয়ে আসবে।

শিশুখাদ্য প্রসঙ্গে টিপু মুনশি বলেন, শিশুখাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতে আমদানি নীতির কপিতয় ধারা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শিশুখাদ্য আমদানির জন্য স্বল্প সুদে জামানতবিহীন প্রণোদনা ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ই-কমার্স, কুরিয়ার সার্ভিস, খাদ্য, ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যেও ওয়্যার হাউজ অপারেশন, পরিবহন ও ডেলিভারি দেওয়ার সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেও য়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ই-কমার্সেও মাধ্যমে খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ডেলিভারির বিষযে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।