মুজিববর্ষে রাষ্ট্রনায়কদের শুভেচ্ছা বাণী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, সৌদী আরবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নায়করা। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে মুজিব বর্ষের ধারণকৃত অনুষ্ঠান ‘মুক্তির মহানায়ক’-এর ভিডিও বার্তায় ভাষণ দেন তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধুকে সাহসী নেতা, দৃঢ়চেতা মানুষ, ঋষিতুল্য শান্তিদূত হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের জন্য এক মহান বার্তা। তিনি বলেন, আজ আমার খুব ভালো লাগে, যখন দেখি যে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলায়’ রূপান্তরিত করার জন্য দিন-রাত কাজ করে চলেছেন।

সমগ্র বাংলাদেশকে ১৩০ কোটি ভারতীয় ভাই-বন্ধুদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। আমন্ত্রণ জানানোর বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাজী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এই ঐতিহাসিক সমারোহে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসজনিত কারণে আমার পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে শেখ হাসিনাজী নিজেই একটি বিকল্প প্রস্তাব দেন এবং সে কারণে আমি এই ভিডিওর মাধ্যমে আপনার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছি।

নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর সমগ্র জীবন আমাদের সকলের জন্য অনেক বড় প্রেরণা। আমরা সকলেই ভালো করে জানি, কীভাবে একটি নিপীড়ক ও দমনকারী সরকার সমস্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ‘বাংলা ভূমির’ ওপর অবিচারের রাজত্ব চালিয়ে জনগণের সর্বনাশ করেছিল। সে সময় যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল সমাজে পরিণত করার জন্য তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ঘৃণা এবং নেতিবাচকতা কখনই কোনো দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না।

শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।