ময়মনসিংহের নান্দাইলে ওষুধের দোকানি পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ওষুধের দোকানি মাজহারুল ইসলাম ওরফে পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আাদলত।মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একলাছ উদ্দিন ওরফে জুয়েল, আবুল কাশেম ফকির ওরফে বাচ্চু, কবির মিয়া, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম ওরফে আবুল ওরফে আবু, আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু ডাক্তার, চন্দন, শুক্কুর আলী ওরফে আশরাফ আলী, বাদল মিয়া, ফারুক মিয়া এবং রুমা আক্তার। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বাদল মিয়া এবং রুমা পলাতক রয়েছেন।

অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় সাতজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এরা হলেন- আফতাব উদ্দিন ওরফে আক্রাম আলী, বদরুল আলম ওরফে বদরুল, ইসমাইল হোসেন, কাজল মিয়া, আবু ছিদ্দিক ওরফে ছিদ্দিক, দুলাল এবং রফিক। এদের মধ্যে রফিক পলাতক রয়েছেন।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।  আদালত থেকে যখন তারা নামতে থাকতে তখন তাদের আহাজারি করতে দেখা যায়। এদিন তাদের আত্মীয়-স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিবুর রহমান মাহবুব। তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

গত ৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ঠিক করেন। ওই দিন ১৪ আসামির জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ সকালের মধ‌্যে কোনো এক সময়ে পল্টনকে তার ওষুধের দোকানেই খুন করা হয়।

এ ঘটনায় পল্টনের বোন বিউটি আক্তার ১ মার্চ নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল থানার ওসি জসিম উদ্দিন। চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর জব্বর মোহরী নামে এক আসামি মারা যান। আদালত জব্বর মোহরীকে অব্যাহতি দিয়ে ২০১০ সালের ৬ জুন ১৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৫ সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।