আত্মসমর্পণকারী ২ জঙ্গি পাবনার: মুরিদ হয়ে পাল্টে যায় স্বভাব

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জঙ্গি সন্দেহে আত্মসমর্পণ করা চার জনের মধ্যে দুজনের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায়। 

তারা হলেন- উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়ামুদা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে নাইমুল ইসলাম (২৫) ও একইগ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে কিরণ ওরফে হামিম ওরফে শামীম (১৯)।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও এক হুজুরের মুরিদ হওয়ার পরপরই পাল্টে যায় তাদের চলাফেরা, আচার-আচরণ ও স্বভাব।

এমনই তথ্য দিয়েছেন আত্মসমর্পণকারী দুই জঙ্গি সদস্যের নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম লিটন। 
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।

সাঁথিয়া উপজেলার খোয়াজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ-উদ-দ্দৌলা জানান, নাইমুল ইসলাম ও কিরণ দুজনই তার প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এবং ওই দুই ছাত্র একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘নাইমুল ইসলাম জোড়গাছা ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রিতে এবং কিরণ একই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র। দুজনেই এলাকায় ধার্মিক ও বিনয়ী ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান।’

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাইমুল ইসলামের বাবা আবু তালেব পেশায় ঘোড়ার গাড়ি চালক। তিনি ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে কিরণের মা বাড়িতেই সেলাই ও দর্জির কাজ করেন এবং বাবা মোখলেছুর রহমান ছোট একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাতে নন্দনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিটন জানান, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে তিনি এই দুজনের তথ্য জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা দুজনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরিবারের সদস্য। বছর দুয়েক আগে রাজশাহী থেকে এক হুজুর এসেছিলেন এই এলাকায়। নাইমুল ও কিরণ দুজনই তার মুরিদ হন। পর্যায়ক্রমে ওই হুজুর তাদের ব্রেন ওয়াশ করে তাদেরকে ভিন্ন পথে নিয়ে যান। সেই হুজুরও জেলে রয়েছেন।’

তবে ওই হুজুরের নাম বা পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি নন্দনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিটন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা আত্মসমর্পণ করা দুই জঙ্গির সম্পর্কে এলাকায় খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে সাঁথিয়া থানায় কোনো মামলা নেই।’