স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া উচিত: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া উচিত। যারা স্কুল-কলেজে যেতে চায়, তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। যারা প্রচলিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে চায়, তাদের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।’ রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় যুব সংহতি এ র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করে।

জিএম কাদের বলেন, ‘যারা করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজে যেতে চায় না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আবার যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের জন্য অটো পাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যখন হাট-বাজার, অফিস-আদালত, গণপরিবহনসহ সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, তখন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যুক্তি নেই। এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। জটিলতা সৃষ্টি হবে শিক্ষা ব্যবস্থায়।’

তিনি বলেন, ‘১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই একটি দেশের স্বাবলম্বিতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হয়। আমাদের জনসংখ্যার বেশিরভাগই ১৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কর্মক্ষম জনশক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দেশে ৫ কোটির বেশি মানুষ বেকার। বেকারত্ব দূর করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রত্যেকের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ প্রকল্পগুলোতে দেশীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে কাজ করতে প্রস্তুত। তাদের জন্য কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে সরকারকে পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।’ যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদার সঞ্চালনায় সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, নাজমা আক্তার এমপি, উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, নির্মল দাস, হেলাল উদ্দিন, মাহমুদা রহমান মুন্নি, এনাম জয়নাল আবেদীন, সুলতান মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসহাক ভুইয়া বক্তব‌্য রাখেন।

এ সময় যুব সংহতির কেন্দ্রীয়নেতা আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, মো. মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, মাহমুদ আলম, অ‌্যাডভোকেট মো. আবু তৈয়ব, মো. শহিদ হোসেন সেন্টু, মো. দ্বীন ইসলাম শেখ, শেখ মোহাম্মদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সদস্য শামছুল হুদা মিঞা, নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী, মো. সোলায়মান সামি, শেখ সারওয়ার, মোস্তাইন বিল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।